বিস্তারিত
  • রাতের আঁধারে শতবর্ষী স্কুল ভবন গুড়িয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন


    বিশ্বনাথ বিডি ২৪ || 20 May, 2018, 8:49 PM || জাতীয়


    নারায়ণগঞ্জের শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ মর্গ্যান স্কুল এন্ড কলেজের শত বছরের পুরনো একটি ভবন রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। স্কুলের পাশে গড়ে ওঠা বহুতল পাঠাগারের গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা করতেই মেয়র আইভীর নির্দেশে ঐ ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে দাবী করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
    স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৮ বছরে ধরে মেয়র আইভীর বাবার নামে করা এই পাঠাগারের নির্মাণকালে বাজেট একাধিকবার বেড়ে ৭ কোটি টাকা থেকে ২৬ কোটি টাকা হলেও বহুতল এই ভবনে কোন গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সিটি কর্পোরেশনের চোখ এখন স্কুলের জমি গ্রাস করার ওপর।
    রবিবার দুপুরে এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে স্কুলের শত শত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এ সময় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগর ভবনে গেলেও মাত্র ৫জন শিক্ষার্থীকে মেয়র আইভীর সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়।
    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেয়র আইভী নিজেও এই স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। কিন্তু তার এই আচরণ আমাদের পীড়া দিয়েছে।
    তবে ভেঙে ফেলা ওই ভবনের জমি নাসিকের বলে দাবী করেছেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওই ভবনটির জমির আরএস, সিএস পর্চাসহ সকল কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। নাসিক তার প্রয়োজনে জায়গাটি চাইতেই পারে।
    অপরদিকে মেয়র আইভীর এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, প্রায় ১০৮ বছর যাবৎ এই জমিটি স্কুলের কাজেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাছাড়া এই ভবনটি মেয়র আইভীর পিতা প্রয়াত আলী আহাম্মদ চুনকা ভাই জীবিত থাকা অবস্থায় গড়ে দিয়েছিলেন। আমরা নাসিকের প্রতি বার বার অনুরোধ করেছিলাম যাতে ভবনটি ভাঙা না হয়। কিন্তু তারা আমাদের অনুরোধ না রেখে রাঁতের অন্ধকারে ভবনটি গুড়িয়ে দিয়েছে।
    স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মর্গ্যান স্কুল ঘেঁষে নির্মানাধীন বহুতল পাঠাগারটির ২০১০ সালে টেন্ডার হওয়ার পর থেকে আজ অবধি কাজ চলছেই। বহুতল এই ভবনে  কোন গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। উপরন্তু ভবনের সামনের ফুটপাতও নিয়ে নেয়া হয়েছে। মূলত এখন ঐ ভবনের গাড়ি পাকিংয়ের ব্যবস্থা করতেই মর্গ্যান স্কুলের ঐ ভবন নিতে চাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন।
    স্কুলের গভর্নিং কমিটির সদস্য ইমামুল সেলিম জানান, গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দ্বিতলবিশিষ্ট শতবর্ষী পুরনো ভবনটি ভেকু মেশিন দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত হলে ভেকু মেশিন নিয়ে কর্পোরেশনের দিকে চলে যায় তারা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আমাদের দেখে পালিয়ে যান।
    রবিবার সকালে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং মুহূর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্কুলে ভীড় জমায় শত শত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ। এ সময় তারা নাসিকের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি নিয়ে নগর ভবনে গেলেও তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
    স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্য আহসান হাবিব জানান, রোজা উপলক্ষ্যে স্কুল বন্ধ থাকায় শুধুমাত্র অসৎ উদ্দেশ্যেই নাসিক মেয়র আইভী এই ভবনটি ভেঙে ফেলেছেন। ভেঙে ফেলা ওই ভবনের নিচে স্কুলের রান্নাঘর ও স্টোররুম ছিল এবং ওপরের তলায় একাধিক ক্লাশরুম ছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর টিফিনের খাবার ওই রান্নাঘরে তৈরি হতো।
    তিনি আরো জানান, আমরা পূর্বে মেয়রের সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ করেছিলাম যেন ভবনটি ভাঙ্গা না হয়। কারণ তার বাবা জীবিত থাকা অবস্থায়ই এই ভবনটি নির্মিত হয়েছিল। এতদিন কোন সমস্যা হলো না হঠাৎ কি সমস্যা হলো যে স্কুল ভবন ভাঙতে হবে। মূলত মেয়রের (আইভী) বাবার নামে নির্মিত আলী আহমেদ চুনকা পাঠাগারটির জন্যই দেড়শ বছরের পুরাতন এই ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। যা আসলেই নিন্দনীয়। আমরা শিক্ষক, গভর্নিং বডি, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
    অপরদিকে ভবন ভাঙা হয়নি বলে দাবী করেছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী এহতেশামুল হক। তিনি জানান, আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগারের কাজ করতে গিয়ে হয়তো কিছু অংশ ভেঙে গেছে।



সর্বশেষ খবর


নিউজ খুঁজুন
আর্কাইভ
ফেইসবুক পেইজ