বিস্তারিত
  • মৃত্যুর জন্য দায়ী মেয়র আরিফুল হক


    বিশ্বনাথ বিডি ২৪ || 20 February, 2019, 5:16 PM || সিলেট


    বিশ্বনাথ বিডি ২৪:: সিলেটের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে আত্মাহুতির হুমকি দিয়ে শুয়ে আছেন এক ব্যক্তি। নাম তার সঞ্জয় রায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সম্পাতপা এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী তিনি। তার আত্মাহুতির জন্য দায়ী করেছেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে।

    আত্মাহুতির কারণ হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি করে তাঁর দেড় কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন এই ব্যবসায়ী। একই অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছেন সঞ্জয়।

    মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ‘প্রদীপ্ত সিলেটবাসী’ এর ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শরীরে কাফনের কাপড় মুড়িয়ে প্রতীকি আত্মাহুতি দেন সঞ্জয় রায়।

    ঘটনা ২০১৪ সালের। সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণের কাজ পায় মাহবুব ব্রাদার্স প্রাঃ লি. নামের ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ষোল কোটি আট লক্ষ টাকা মূল্যের এই কাজের কার্যাদেশ পায় মাহবুব ব্রাদার্স। ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স কাজটি নিজে না করে সঞ্জয় রায়ের সম্পাতপা এন্টারপ্রাইজের সাথে চুক্তি করে।

    সঞ্জয় রায় জানান, যথাসময়ে কাজ শুরুর পর নগর ভবন থেকে বিভিন্ন সময় মাহবুব ব্রাদার্স প্রাঃ লিঃ এর নামে বিল ইস্যু করা হতো এবং মাহাবুব ব্রাদার্স থেকে তিনি নিয়মিত চেক গ্রহণ করে নিজের মনোনীত একাউন্টে লেনদেন করতেন। মোট কাজের আনুমানিক ৫ শতাংশ কাজ বাকি থাকাবস্থায় সঞ্জয় রায়ের লিভার সিরোসিস রোগ ধরা পড়ে ভারতে চিকিৎসা নিতে চলে যান। সে সময় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মূল ঠিকাদার মাহবুব ব্রাদার্সকে জিম্মি করে দুই কোটি ছেষট্টি লক্ষ টাকার চূড়ান্ত বিল আত্মসাৎ করেন।

    সঞ্জয় রায় আরো বলেন, এক পর্যায়ে ২ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর কাজের বিপরীতে সিটি করপোরেশনে রক্ষিত জামানতের এক কোটি আটান্ন লক্ষ টাকাও মেয়র আরিফুল হক আত্মসাৎ করেন। একাজে তাকে সহযোগিতা করেন রাজধানীর হোটেল ক্যাপিটালের পরিচালক তোফায়েল খান। তার ব্যাংক একাউন্টেই এই টাকার লেনদেন হয়। কিছুদিন পর সঞ্জয় এ ঘটনা জানতে পেরে আরিফুল হকের কাছে গিয়ে টাকা দাবি করলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন আরিফ। এসময় মেয়র তাকে নিজ বাসায় আটকে রেখে তার কাছ থেকে একটি চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এই চেকে ইচ্ছেমতো টাকার অংক বসিয়ে তাকে মামলার আসামি করার হুমকিও দেন মেয়র।

    সঞ্জয় রায় বলেন, আমি প্রাণের ভয়ে এতোদিন এসব কাউকে বলিনি। পরে পরিবার পরিজনের পরামর্শে আমি আইনের আশ্রয়ের জন্য পুলিশ স্টেশন, জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি এবং দুদকে জানানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। প্রাপ্য টাকা শীঘ্রই ফেরত না পেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে প্রকাশ্যে আত্মাহুতি দেবার ঘোষণা দেন সঞ্জয়। এসময় তিনি আরিফুল হকের সকল দুর্নীতির তদন্তও দাবি করেন।

    তবে সঞ্জয়ের এমন অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরিফুল হক বলেন, নগর ভবনের ঠিকাদার মাহবুব ব্রাদার্স। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজের সকল বিল একাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জামানতের টাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হয়, যা কাজ সম্পন্নের এক বছর পর ফেরত দেয়া হয়। সকল নিয়ম অনুসরণ করেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে মেয়র অভিযোগ করেন, যখন এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে তখনতো আমি জেলে ছিলাম। আমার এবং আমার পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজে ঈর্ষান্বিত হয়েই একটি মহল আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসময় মেয়র সঞ্জয় রায়কে চেনেন না বলেও দাবি করেন।



সর্বশেষ খবর


নিউজ খুঁজুন
আর্কাইভ
ফেইসবুক পেইজ