বিশ্বনাথ বিডি ২৪ || 14 December, 2018, 7:07 PM || বিশ্বনাথ, সিলেট
বিশ্বনাথ বিডি ২৪ ::একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে বাচাই পর্বে বাতিল হওয়া মনোনয়নের বৈধতা ফিরে পেলেন আ’লীগ ঘরানার দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তারা হচ্ছেন, সাবেক বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা মুহিবুর রহমান এবং ড. এনামুল হক সরদার। মঙ্গলাবার হাইকোর্টের আপিল বিভাগ তাদের মনোনয়ন বৈধতা দিয়েছেন বলে তারা জানান। তারা উভয়ই প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। তার মধ্যে মুহিবুর রহমান প্রতীক পেয়েছেন ‘ডাব’ আর ড. এনামুল হক সরদার পেয়েছেন ‘সিংহ’। আ’লীগ ঘরানার এ দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় পুরো আসনের আ’লীগের কর্মী সমর্থকরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠেছেন। এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আ’লীগের কোন প্রার্থী না থাকায় কর্মী সমর্থকরা নির্বাচন বিমুখ হয়ে পড়েন। অনেকটা অভিমান করে তারা মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করছেন না। আসনে মহাজোট প্রার্থী জাপা নেতা এহিয়া চৌধুরী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে থাকলেও অনেক আ’লীগের কর্মী সমর্থকরা তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইস বুকে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর পক্ষেই জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাচাই পর্বের দিন এদুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটর্নিং অফিসার। পরবর্তীতে তারা দু’জন নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আপিল করলে সেখানেও তাদের মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে গন্য হলে হাইকোর্টে গিয়ে আপিল করেন। আর ওই আপিলে তাদের মনোনয়নের বৈধতা ফিরে পান। তাই নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন বঞ্চিত আ’লীগের কর্মী সমর্থকরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠেছেন। তবে তাদের বড় একটি অংশ মুহিবুর রহমানের পক্ষেই রয়েছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। তার সাথে প্রতিদ্বন্ধিতায় ছিলেন যুক্তরাজ্য আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। আর মহাজোট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন জাপা নেতা এমপি ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। কিন্তু অবশেষে এই আসনে লাঙ্গল প্রতীকে মনোনয়ন পেয়ে যান এহিয়া চৌধুরী। এতে আ’লীগের কর্মী সমর্থকরা অভিমান করে নির্বাচন বিমুখ হয়ে পড়েন। এতদিন তারা নির্বাচন বিমুখ হয়ে থাকলেও এখন দেখা যাচ্ছে তাদের অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এব্যাপারে উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বিগত ৫টি বছর এমপি এহিয়া চৌধুরী মহাজোট থেকে নির্বাচীত হওয়ার পর শরিকদের সাথে কোন সমন্বয় রাখেননি। তাই বর্তমান নির্বাচনে আ’লীগ নেতাকর্মীরা তার উপর বিমুখ হয়ে পড়েছেন। তবে কোন প্রার্থীকে সমর্থন করবেন এমন সিদ্ধান্ত দুই একদিনের মধ্যেই জেলা থেকে চলে আসবে বলে জানান।



