বিস্তারিত
  • বিশ্বনাথ পৌরশহরের আবর্জনা ও যানজট সমস্যার সমাধানের দাবীতে প্রবাসীদের স্মারকলিপি


    বিশ্বনাথ বিডি ২৪ || 14 January, 2026, 9:48 PM || বিশ্বনাথ


    বিশ্বনাথবিডি২৪ঃ বিশ্বনাথ পৌর শহরের বাসিয়া নদীর উভয় চর থেকে আবর্জনা অপসারণ,ডাস্টবিন স্থাপন, যানজটসহ ৭দফা দাবিতে গত সোমবার (১২ জানুয়ারী) প্রবাসীদের পক্ষ থেকে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উম্মে কুলসুম রুবির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, যুক্তরাজ্যের উইল্ট শায়ার সিটির ডেপুটি মকরম আলী আফরোজ, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মাফিজ খান, ট্রাস্টী মনির উদ্দিন বশির,
    বশির মিয়া,আব্দুল গফুর, ফারুক মিয়া,বাবরল হোসেন বাবুল, কমিউনিটি নেতা আব্দুন নুর।

    বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উম্মে কুলসুম রুবির কাছে লিখিত স্মারকলিপিতে বলেন, আমরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসীরা ছুটি কাটানো ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য দেশে অবস্থান করছি।অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমরা প্রত্যক্ষ করছি যে, প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলা সদর ও পৌর শহরের সর্বত্র ময়লা-আবর্জনার জঞ্জাল। বিশেষ করে পলিথিন প্যাকেট ও বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।একসময়কার স্রোতস্বীনি বাসিয়া নদী এখন মৃতপ্রায়। বাসিয়া ব্রিজে দাঁড়ালে দেখা যায়, বাসিয়া নদী যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বাসিয়া নদীর উভয় চরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, গোটা এলাকার বায়ু দূষিত হচ্ছে। পৌর শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁয় বসলে ময়লার দুর্গন্ধ নাকে আসে। বিশ্বনাথ বাজারে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ডাস্টবিন নেই। পরিচ্ছনতা কর্মীদের তৎপরতাও চোখে পড়ে না।বিশ্বনাথ বাজারে যততত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়, যাত্রী ওঠানামা হয়। ফলে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। থানার সম্মুখ, কালিগঞ্জ- জগন্নাথপুর সড়ক, উপজেলা সড়ক সর্বত্র সারাক্ষণ যানজট লেগেই আছে। প্রধান প্রধান সড়কে যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। এজন্য প্রয়োজন বাস, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশার জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও পার্কিং ব্যবস্থা।
    বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে যাওয়া বিশ্বনাথ-খাজাঞ্চি সড়কের ঠিক পাশের খাল আবর্জনায় সয়লাব। খালের আশপাশের বাসা-বাড়ির লোকজন দৈনন্দিন ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলে দেওয়ায় খালটি ভরে এখন মৃতপ্রায়। এসব আবর্জনা পচে গিয়ে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
    পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য বিশ্বনাথ পৌর শহরে যথাযথ ব্যবস্থা নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল।
    বিশ্বনাথ একটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা। এখানকার হাজার হাজার মানুষ প্রবাসে পরিশ্রম করে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সকলের আন্তরিকতায় বিশ্বনাথ একটি মডেল শহর হিসেবে গড়ে ওঠবে।
    আমাদের উদাত্ত আহ্বান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে – ১। বিশ্বনাথ শহরের বাজার ও অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সমস্ত বর্জ্য পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের আওতায় নির্ধারিত স্থানে ফেলা হোক।
    ২। বাসিয়া নদীর উভয় চর থেকে দুর্গন্ধময় ময়লা-আবর্জনা জরুরিভিত্তিতে অপসারণ করা হোক। বাসিয়া ব্রিজের উভয় তীরে বড় স্কিপ বা আবর্জনা ফেলার জন্য আয়তাকার বৃহৎ কন্টেইনার রাখা হোক,৩। জনসাধারণের সুবিধার্থে অল্প দূরত্বে বিশ্বনাথ নতুন বাজার ও পুরাতন বাজারে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাস্টবিন স্থাপন করা হোক,৪। বাসিয়া ব্রিজ ও এর উভয় পাশে পৌর কর্তৃপক্ষের আওতায় ফুল টাইম ট্রাফিক ওয়ার্ডেন নিযুক্ত করা হোক,
    ৫। যানজট নিরসনকল্পে অটোরিকশা, বাস, রিকশার জন্য বাজারের বাইরে স্ট্যান্ড স্থাপন করা হোক,৬। বিশ্বনাথ শহরে উত্তম ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা পয়প্রণালি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক,৭। বেদখল হওয়া সকল সরকারি খালসমূহ উদ্ধার করে এগুলো খননের ব্যবস্থা করে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা হোক।
    এ প্রসঙ্গে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবি বলেন, প্রবাসীদের এই দাবী সমূহ গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।



সর্বশেষ খবর


নিউজ খুঁজুন
আর্কাইভ
ফেইসবুক পেইজ