বিশ্বনাথ বিডি ২৪ || 18 March, 2018, 6:37 PM || রাজনীতি
একই আদর্শ ও দলের রাজনীতি করলেও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত লবিং ও গ্রুপিং করে আসছেন এক সময়ের যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক, বর্তমান সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন সিলেট-২ এ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে যুক্তরাজ্যে ও বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছেন উভয় নেতা। যুক্তরাজ্যে ও স্থানীয়ভাবে উভয় নেতার রয়েছে বিপুল সংখ্যক কর্মী সমর্থক। দীর্ঘদিন যাবত উভয় নেতার কর্মী সমর্থকরা নানান কারনে আলাদা আলাদা সভা সমাবেশ করলেও যুক্তরাজ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন উপলক্ষে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ আয়োজিত সভায় একই মঞ্চে বসে বক্তব্য রাখেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও শফিকুর রহমান চৌধুরী। এসময় তারা একে অপরের প্রশংসা করে বক্তব্যদেন।
আলোচনা সভাশেষে কেক কাটা হলে প্রথমে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী অন্যান্য নেতাদের সাথে শফিকুর রহমান চৌধুরীকে কেক খাওয়ান। পরে শফিকুর রহমান চৌধুরীও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে কেক খাওয়ান। এসময় হলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাততালি দিতে দেখা যায়।
লন্ডনে এক মঞ্চে দুই চৌধুরীর ছবি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ফেসবুক ওয়ালে এখন ভাইরাল হয়ে পড়েছে। শেয়ার হচ্ছে এক একাউন্ট থেকে অন্য একাউন্টে। ছড়িয়ে পড়ছে সিলেট ও প্রবাসের আওয়ামী নেতাকর্মীদের ফেসবুক আইডিতে।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক-সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী তারা উভয়ই সিলেট-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। আওয়ামী রাজনীতির মাঠে তারা একজন আরেকজনের প্রতিপক্ষ। অথচ,কয়েক বছর আগেও তারা একে অপরের আপনজন ছিলেন। লন্ডনে শুক্রবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের আয়োজিত সভায় আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী একে অন্যকে জন্মদিনের কেক খাইয়ে দেন। আর এ ছবিটি নেতাকর্মীরা তাদের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করে আওয়ামী পরিবারে ঐক্যের আহবান জানিয়েছেন।
নেতাকর্মীরা মনে করেন দুই নেতার ঐক্যে ও সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের সরব-নিরব গ্রুপিং পরিহার করে এককাট্টা হয়ে নির্বাচন করলে এই আসনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে। ২০০৮ সালে শফিকুর রহমান চৌধুরী বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করেছিলেন। সেই বিজয়ে অন্যতম ভুমিকা পালন করেছিলেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এর পরেই পালটে যায় দৃশ্যপট। পৃথক বলয়ে এলাকায় চলে তাদের রাজনীতি। গ্রুপিং-দ্বন্ধে তিন উপজেলায় প্রায় সকল নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে আওয়ামীলীগের। ঐক্যবদ্ধ না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে এ আসন হারাচ্ছে আওয়ামীলিগ তা ধরেই নিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের জনসংযোগ সম্পাদক,প্রবাসী বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রবিন পাল বলেন, এক মঞ্চে তাদের দেখা একটি ইতিবাচক দিক, আমরা একটা সুসংহত, সুসংগঠিত একটি স্মার্টার এবং স্ট্রংগার আওয়ামীলীগ হিসেবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। এই আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে দরকার নেতাকর্মীদের ইস্পাত দৃঢ়ঐক্য। ঐক্যের বিকল্প নেই।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আনোয়ারুজ্জামান বলয়ের নেতা ফখরুল ইসলাম মধু দুই নেতার একে অন্যকে কেক খাওয়ানোর প্রসঙ্গে বলেন, এটাই আওয়ামী লীগের গৌরব, এটাই আওয়ামী সৌন্দর্য।
আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্য আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ লন্ডন মহানগরের সহ সভাপতি আবুল ফয়েজ বলেন, একই মঞ্চে দুই নেতাকে দেখে ভালো লাগলো। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সচরাচর এরকম দেখা যায়না। আমরা আনন্দিত, আর এটাই হলো আওয়ামী রাজনীতির কারিশমা।



