বিশ্বনাথ বিডি ২৪ || 28 March, 2026, 12:12 AM || বিশ্বনাথ
বিশ্বনাথবিডি২৪::দেশজুড়ে যখন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ও উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, তখন এক বুক চাপা কষ্ট আর আতঙ্কে দিন কাটছে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের পরিবারের। ষড়যন্ত্রমূলক মাদক মামলায় নাম জড়িয়ে দেওয়ায় বর্তমানে ফেরারি অবস্থায় রয়েছেন শহিদুল ইসলাম ও তার পুত্র। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কান্নায় ভেঙে পড়ে এই অভিযোগ করেন শহিদুলের স্ত্রী মোছা. জোসনা বেগম।
জোসনা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘জাকারিয়া সিটি’ সততার সাথে দেখাশোনা করে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় একটি চিহ্নিত দখলবাজ চক্র ওই প্রতিষ্ঠানের ওপর নজর দিয়েছে। চক্রের মূল হোতা রাহাত চৌধুরী মুন্না এবং তার সহযোগীরা শহিদুলকে বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় তারা তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
এসময় তিনি আরও জানান, গত ১৭ মার্চ ইফতারের ঠিক আগে জাকারিয়া সিটি থেকে ফেরার পথে ডিবি পরিচয়ে শহিদুল ইসলামের গাড়ি থামানো হয়। তল্লাশিতে কিছু না পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে জনৈক ব্যক্তির মাধ্যমে নাটকীয়ভাবে ‘ইয়াবা পাওয়া গেছে’ বলে দাবি করা হয়। পরিবারের দাবি, এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত এবং সাজানো একটি ঘটনা।
পরবর্তীতে শাহপরাণ (রহ.) থানার ওসি সরেজমিনে তদন্তের আশ্বাস দিলেও, কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই শহিদুল ও তার ছেলের বিরুদ্ধে মাদক মামলা (নং-৩০) রেকর্ড করা হয়। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে গত নির্বাচনে শহিদুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থককে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি পরিবারের।
জোসনা বেগম বলেন, “এজাহারে উল্লেখিত সময়ে আসামীগণ অন্য এলাকায় একটি ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, যার ভিডিও ও ছবিসহ অকাট্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। অথচ পুলিশের কথিত সোর্স ফয়সল কাদিরের সাজানো অভিযোগে তাদের ফেরারি হতে হয়েছে।” এছাড়া গত বুধবার রাতে তাদের বাড়িতে বেআইনি তল্লাশি চালিয়ে একটি নিলামে ক্রয়কৃত বৈধ গাড়ি পুলিশ নিয়ে গেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে অবিলম্বে এলাকাবাসী ও প্রবাসী পরিচালকদের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটন করা। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সম্মান ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান। ষড়যন্ত্রকারী রাহাত চৌধুরী মুন্না ও ফয়সল কাদিরসহ পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। শহিদুল ইসলামের স্ত্রী তার পরিবার ও জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মো. ইকবাল হোসন সমর, মো. হারুণ মিয়া, মো. বাবুল হোসেন, আবুল মিয়া, আলমাছ মিয়া প্রমুখ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।



