বিশ্বনাথ বিডি ২৪ || 24 March, 2026, 9:31 PM || বিশ্বনাথ
রফিকুল ইসলাম জুবায়ের:: ঈদ শব্দটি আরবী, যার অর্থ আনন্দ। ফিতর শব্দটিও আরবী, যার অর্থ রোজা ভাঙা। ঈদুল ফিতরের অর্থ রোজা শেষ হওয়ার আনন্দ, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করার আনন্দ ও উপবাস ভাঙ্গার আনন্দ। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কারিকোনা গ্রামে অনেকটা ব্যতিক্রমভাবে পালিত হয় এই আনন্দ উৎসব।
বিশ্বনাথ পৌরশহরের নিকটবর্তী কারিকোনা গ্রামে ধনী-গরীব মিলে এক কাতারে বসে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দুই ঈদের দিনে শিরণী খাওয়ার একটি সুপ্রাচীণ ঐতিহ্য রয়েছে। যা গত প্রায় শত বছরের বেশী সময় ধরে এই রেওয়াজ চলে আসছে। এনিয়ে গ্রামবাসীরও আনন্দের সীমা নেই।
জানাগেছে, প্রায় ১শত ২১ বছর পূর্বে বর্তমান বিশ্বনাথ উপজেলার স্থানীয় কারিকোনা গ্রামবাসী প্রতি বছর দুই ঈদে অর্থাৎ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় গ্রামের ধনী-গরীব সবাই মিলে এক কাতারে বসে শিরণী খাওয়ার রেওয়াজ চালু করেন। ধনী ও গরীবের মধ্যে বিবেদ দূর করে দিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে এই শিরণী খাওয়ার উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা এখানো চালু রয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিবারের ন্যায় এবারও ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) জোহরের আজান পড়ার সাথে সাথে ধনী-গরীব প্রায় প্রতিটি ঘর থেকে ২টি পৃথক পাত্রে রান্না করা মাংসের তরকারী ও সাদা ভাত মসজিদে নিয়ে আসা শুরু হয়। দুপুর ২টা নাগাদ খাবার আসতে থাকে। মসজিদে জোহরের নামাজ শেষ হওয়ার পর মসজিদে থাকা পঞ্চায়েতের বড় বড় পাত্রে আলাদা আলাদা করে বিভিন্ন ঘর থেকে আসা গরু, খাশি ও মোরগের মাংসের তরকারী রাখা হয়। আর ততক্ষণে মসজিদের ঈদগাহ প্রাঙ্গণে গ্রামবাসী বাড়ী থেকে নিয়ে আসা প্লেট নিয়ে সারিবদ্ধভাবে মাটিতে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। এরপর গ্রামের পঞ্চায়েতের মুরব্বীরা খাবার বন্টনের জন্য সব বয়সের কিছু লোক নিয়োগ করেন। ঈদগাহ প্রাঙ্গণে যখন সবাই শৃঙ্খলা মত বসা শেষ করেন তখন পঞ্চায়েতের মুরব্বিদের নির্দেশে বন্টনকারীরা খাবার দেওয়া শুরু করেন। এবার গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আশরাফ উদ্দিনের পক্ষ থেকে পঞ্চায়েতী শিরনীতে মিনারেল ওয়াটার সরবরাহ করা হয়।কারিকোনা গ্রামের দীর্ঘদিনের প্রাচীণ এই ঐতিহ্য সম্পর্কে পঞ্চায়েত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হযরত মাওলানা ফয়জুর রহমান বলেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় ধনী-গরীব সবাই মিলে কারিকোনা গ্রামের বায়তুল মা’মুর জামে মসজিদে বসে শিরণী খাওয়ার রেওয়াজ আমাদের গ্রামের শত বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্য। এ ধারা বর্তমানেও অব্যাহত আছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল কাদির রানু বলেন, দীর্ঘ প্রায় একযুগ পরে মসজিদে এসে শিরণী খেতে পারলাম। এতে যে আনন্দ পেলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি বলেন, এবছর অনেক প্রবাসী এসেছেন তারাও শরীক হয়ে এই শিরণী খেয়ে পরিতৃপ্তি পেয়েছেন। গ্রামের বাসিন্দা ও বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও গ্রামের ফুলকুঁড়ি সংঘের প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য শিরনী বিতরণে সহযোগিতা করেন। এবারের ঈদে প্রায় চার শতাধিক মানুষ শরীক হন। প্রতিবারের ন্যায় এবারও গ্রামবাসী ছাড়াও আশ-পাশের অনেকেই এবার এই শিরনীতে অংশ নেন।আমরা আশাবাদী ভবিষ্যতেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম গ্রামের এই ঐতিহ্য ধরে রাখবে।



