বিস্তারিত
  • বিশ্বনাথে ৪ দিনেও স্কুল ছাত্রের ‘খুনি’ গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ


    বিশ্বনাথ বিডি ২৪ || 04 May, 2021, 5:11 PM || বিশ্বনাথ


    বিশ্বনাথবিডি২৪:: বিশ্বনাথ উপজেলায় স্কুলছাত্র সুমেল হত্যাকান্ডের চার দিনেও অভিযুক্ত ‘খুনি’ সাইফুল ওরফে লন্ডনি সাইফুলকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকান্ডের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকে বোকা বানিয়ে গাঁ ঢাকা দেয় সে।

    এরপর চারদিন হন্য হয়ে ঘুরেও তার সন্ধান পায়নি তারা। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ‘রহস্যজনক’ উল্লেখ করে নানা প্রশ্ন তোলেছেন উপজেলার মানুষ।

    এদিকে, যে যাতে বিদেশ পলিয়ে যেতে না পারে এজন্য ইতিমধ্যে তার দু’টি পাসপোর্ট জব্দ করেছে পুলিশ।

    গেল ১লা মে উপজেলার চৈতননগর গ্রামের সড়কে মাটি কাটাকেন্দ্র করে সাইফুল ও নজির গংদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে স্কুল ছাত্র সুমেল নিহত হন। তিনি সুমেল একই গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    এ ঘটনায় সুমেলে চাচা ইব্রাহিম আলী সিজিল বাদী হয়ে সাইফুলকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৩ এপ্রিল রাতে থানায় হত্যা মামলা (নাম্বার-৪) দেন।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৃত মৎস্যজীবিদের বঞ্চিত করে উপজেলার সব’চে বড় জলমহাল ‘চাউলধনী হাওর’ ইজারা নিয়ে আলোচনায় আসেন উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চৈতননগর গ্রামের মৃত আফতাব মিয়ার ছেলে সাইফুল আলম ওরফে লন্ডনি সাইফুল। হাওর ইস্যু নিয়ে জন্ম দেন একাধিক আলোচিত ঘটনার। হাওর পাড়ের মানুষের কাছে ‘মূর্তিমান জলদস্যু’র ন্যায় আর্বিভাব ঘটে তার।

    সুবিধাভোগী প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের নিজ গ্রাম চৈতননগরে বিস্তার করেন একক আধিপত্য। গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। তার পত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘটে একের পর সংষর্ঘ, দখল ও সীমানা প্রচীর গুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা। সর্ব শেষ গেল ১লা মে বিকেলে গ্রামের সড়েক মাটিকাটা নিয়ে ‘সাইফুল আলম ও নজির উদ্দিন’ পক্ষের সংঘর্ষ হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামের ভেতদর দিয়ে একটি সড়ক নামা টুকেরবাজার মূল সড়কে গিয়ে যুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি এ সড়কে নিজের গোত্রের লোকজন নিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন, একাধিক ঘটনায় আলোচিত গ্রামের সাইফুল ওরফে লন্ডনি সাইফুল। সড়কের পাশে গ্রামের নজির মিয়ার ধানী জমি থেকে তারা মাটি কাটতে গেলে আপত্তি করেন তিনি। এ নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    এক পর্যায়ে নিজের অগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সাইফুল গুলি ছুড়েন। এসময় মাটিতে লটিয়ে পড়েন পতিপক্ষের কয়েকজন। এদের মধ্যে মারা যায় স্কুলছাত্র সুমেল।

    এ বিষয়ে কথা হলে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ শামীম মূসা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সাইফুলের গুলি করার বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাইফুলকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।



সর্বশেষ খবর


নিউজ খুঁজুন
আর্কাইভ
ফেইসবুক পেইজ